বন্ধু-বান্ধব,সহধর্মিনী ও সহকর্মীদের একরকম চাপাচাপিতেই বঙ্গবন্ধু নিজ হাতে লেখা শুরু করেন তার আত্মজীবনী মূলক এই বই ” অসমাপ্ত আত্মজীবনী”। বইটি অসমাপ্ত বলার কারণ, তিনি ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে অন্তরীণ অবস্থায় লেখা শুরু করেছিলেন তার জীবনে ঘটে যাওয়া নানা পেক্ষাপট, কিন্তু শেষ করে যেতে পারেন নি। বঙ্গবন্ধুর লেখা ৪ টি খাতা আকস্মিকভাবে তার কন্যা শেখ হাসিনার হাতে হস্তগত হয়। পরবর্তীতে শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহেনার সহায়তায় বইটি ২০১২ সালের জুন মাসে প্রথম সংকলিত করে প্রকাশ করা হয় বাংলা ,আরবি ও হিন্দি সহ একাধিক ভাষায়।
বইটিয়ে আত্মজীবনী লেখার পেক্ষাপট, লেখকের বংশ পরিচয়, জন্ম, শৈশব, স্কুল ও কলেজের শিক্ষা জীবনের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্ম কান্ড, দুর্ভিক্ষ, বিহার ও কলকাতার দাঙ্গা, ভারত ও পাকিস্থান ভাগ ( হিন্দু মুসলমান দাঙ্গার কারণে) বঙ্গবন্ধু এখানে সক্রিয় কর্মী ছিলেন। কলকাতাকেন্দ্রিক প্রাদেশিক মুসলিম ছাত্রলীগ ও মুসলিম লীগের রাজনীতি,দেশ বিভাদের পরবর্তী সময় থেকে ১৯৫৪ সাল অবধি পুর্ব বাংলার রাজনীতি, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক মুসলিম লীগ সরকারের অপশাসন, ভাষা অান্দোলন ( এসময় বঙ্গবন্ধু কারাগারে ছিলেন),ছাত্রলীগ ও আওমীলিগ প্রতিষ্ঠা( এক্ষেত্রে অতি সাধারণ কর্মী সিহেবে কাজ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু কিন্তু সোহরাওয়র্দী সাব, যাকে তিনি রাজনৈতিক মডেল হিসেবে দেখতেন সে তাকে খুব প্রাধান্য দিত। যার ফলাফল বঙ্গবন্ধুর মহানেতা হয়ে উঠা) যুক্তফ্রন্ট গঠন ও নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন, আদমজীর দাঙ্গা, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের বৈষম্যমূলক শাসন ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের বিস্তৃত বিবরণ এবং এসব বিষয়ে লেখকের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বর্ণনা রয়েছে।আছে লেখকের কারাজীবন, পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও সর্বোপরি সর্বংসহা সহধর্মিণী বেগম ফজিলাত্তুনেসা কথা, যিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনে সহায়ক শক্তি হিসেবে সকল দুঃসময়ে অবিচল পাশে ছিলেন। একইসঙ্গে রাজনৈতিক কারণে লেখকের চীন, ভারত ও পশ্চিম পাকিস্তান ভ্রমণের বর্ণনাও বইটিকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে।
বিশেষ কিছু উক্তি ঃ
১) “এই বাংলায় হিন্দু-মুসলমান যারা আছে আমাদের ভাই, বাঙালি-অবাঙালি—তাদের রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের ওপর, আমাদের যেন বদনাম না হয়।”
২) “সাত কোটি মানুষকে দাবায়া রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবা না।”
৩) “রক্ত যখন দিয়েছি, আরও রক্ত দেব। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশা আল্লাহ।”
৪) “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।”